----------------------
১৯ ডিসেম্বর,
২০২২, ৪:৫৬ বিকাল
-------------------------
বিশ্বকাপের ফাইনাল
ম্যাচ নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকতো সব সময়। কিন্তু কখনই প্রত্যাশামত কিছুই হতো না। এবার
তা হয়েছে। এরকম বিশ্বকাপ ফাইনাল কখনও দেখেছি কিনা মনে পড়ছে না।
ঠিক যেমন যেমন
প্রত্যাশা করেছিলাম ঠিক তেমন তেমনভাবেই ম্যাচ এগিয়েছে। এজন্য স্কালোনিকে প্রথমেই ধন্যবাদ
দিতে হয় তার গেইম প্ল্যানিয়েংর জন্য।
ফ্রান্স এমন একটা
দল যাকে খেলার সুযোগ দিলে একেবারে ’খেলা ফাইনাল’ করে ছাড়ে। ঠিক এটাই ছিল আমার মাথায়।
স্কালোনির মাথায়ও এটা ছিল এখন নিশ্চিতভাবে বলা যায়। তাদেরকে কোনোভাবেই বল এবং খেলা
নিয়ন্ত্রণ করতে দেয়া যাবে না। ম্যাচের প্রথমার্ধে ঠিক যেমনটা করলো আর্জেন্টিনা। বল,
মাঠ এবং খেলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তারা ধরে রেখেছিল। এ যেন বাঙলার গত দশকের সবচেয়ে
বেশি চর্চিত-চর্বিত ডায়ালগ ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।’ এর বাস্তব
প্রতিফলন। এই অর্ধে তারা ফ্রান্সকে ছাড় দেয়নি। মাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখে মুহূর্মূহু আক্রমণ।
ফলশ্রুতিতে দুই গোল। ফ্রান্সকে তো খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। এমবাপের নাম কানেই আসছিল
না। এমবাপের জন্য একটু মায়াই লাগছিল। ‘পোলাডা’ একেবারে মিইয়ে গেছে মানে তাকে মিইয়ে
রাখা হয়েছে। ভাবছিলাম ও যেন একটু ভালো করে। এভাবে কোনঠাসা হয়ে থাকাটা ভালো দেখায় না।
দ্বিতীয়ার্ধে
এসে আর্জেন্টিনা তার সেই স্বভাবসুলভ আচরণ আবারও দেখাতে শুরু করলো। তারা সাধারণত দুই
একটা গোল দেয়ার পর কেমন যেন হাল ছেড়ে দেয়। এমন ভাব করে যেন আমরা তো জিতেই গেছি। বেশি
গোল দিয়ে কী লাভ! এটা তারা প্রায় সব সময় করে থাকে। আজও করলো। এর মাশুলও দেয়া শুরু করলো।
যেই না সুযোগ পেল ফ্রান্স তাদের লড়াই শুরু করলো। তাদের গতি দিয়ে আর্জেন্টিনাকে নাস্তানাবুদ
করতে শুরু করলো। আর্জেন্টিনা জার্মানির কাছে একাধিকবার হেরেছে তাদের গতির কারণে। ফ্রান্সের
কাছে হেরেছে গতির কারণে। এবারও মনে হচ্ছিল তারা আবার হারতে বসছে। একটা সময় তো ফ্রান্সের
কোচ এত এত খেলোয়াড় বদল করতে লাগলো যে মনে হচ্ছিল প্লেনে করে দেশের আনাচ-কানাচ থেকেও
তিনি পারলে খেলোয়াড় নিয়ে এসে মাঠে নামিয়ে দেবেন :P । এবার এমবাপে ’পোলাডা’ যেন আগুনের
গোলা হয়ে গেল। পর পর দু’গোল দিয়ে একেবারে সমতা ফিরিয়ে আনলো। মেসি-রোনালডো পরবর্তী
GOAT যে সে! তার তো এমনই ঝলক দেখানোর কথা ছিল।
অতিরিক্তি সময়ে
আর্জেন্টিনা কখনও যা করেনি ঠিক তাই করলো। অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ালো। এক গোল করে
আবার ফলাফল নিয়ন্ত্রণে আনলো। কিন্তু ওদিকে এমবাপে হ্যায় না! সেতো এভাবে ম্যাচ ছেড়ে
দিতে পারে না। বিশেষ করে (ম্যাচ পরবর্তী) তার শরীরি ভাষা দেখে মনে হচ্ছিল মেসির সাথে
এক অলিখিত দৈরথে সে নেমেছিল। এত অল্প বয়সে মেসির মত ঝানু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সাথে পাঙ্গগা
নেয়ার সাহস তারই তো থাকার কথা। যাকে বলা হচ্ছে মেসি পরবর্তী GOAT । এই না হলে পেশাদার
খেলোয়াড়! তার হার না মানা হারের কারণে আমরা পেয়ে গেলাম এক দম বন্ধ করা ফাইনাল। আরেকটা
গোল দিয়ে আবার সমতা ফিরিয়ে আনলো।
টাইব্রেকারের
সময় আমার একটা মজার কথা বলি.. যে দু’টি গোল ফ্রান্স মিস করেছিল প্রত্যেকটার আগেই আমার
মন টানছিল মিস হবে। ঠিক মিস হলো। অবশ্য মেসিকে নিয়ে ভয়ে ছিলাম যদি না আবার মিস করে
বসে। সত্যি বলতে, কাউকে ছোট না করেই বলছি, আমার কাছে মনে হয়েছে কালোদের কারণে ফ্রান্স
গতিতে অনেক অনেক এগিয়েছিল। সাথে গোল করার জন্য ছিল এমবাপে। একদিকে গতি, আরেক দিকে গোলমেশিন।
মাঠের খেলায় এটা ঠিক ছিল। কিন্তু যখন টাইব্রেকারের বিষয় আসে তখন কিন্তু পেনাল্টি কিক
নেয়া সবাইকেই গোল করতে হয়। এটা কিন্তু একটু মনস্তাত্বিক খেলা, আমার মনে হয়। কালোদের
নিয়ে এখানেই ফ্রান্স হেরেছে বলে আমার মনে হয়। আমার মনে করায় ভুল থাকতে পারে।তবে আমার
এটাই মনে হয়।
Comments
Post a Comment