14 May, 2020
------------------------
মাঝে মাঝেই শিক্ষার্থীরা বিশেষ
করে চাকুরি প্রত্যাশীরা, শিক্ষককতায়
জড়িতরা আমার কাছে পড়ার
জন্য ইনবক্স করে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এ
পর্যায়ে এসে শিক্ষকের কাছে
পড়া কতটা জরুরী বা
উপকারী? এ প্রশ্নের জবাব-ই আমি ব্যাখ্যা
করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি এই
লেখায়। আমি
আমার চরম দুরবস্থায়ও নিজের
স্বার্থে কাউকে সু-পরামর্শ
বৈ কু-পরামর্শ দিইনি। কিছু
তিতা সত্য এখানে তুলে
ধরার চেষ্টা করেছি।
আশা করছি, শিক্ষার্থীদের বোধদয়
হবে।
-
তো, সম্প্রতি
এক শিক্ষার্থী পড়ার জন্য ইনবক্স করে। আমি ওনার কাছে কিছু বিষয় জানতে চেয়েছিলাম। যেমন
– আপনি কি পড়তে চান, কেন পড়তে চান? আমার জিজ্ঞাসার জবাবে ওনার জবাব হুবহু নিচে দেয়া
হলো। তারপরে রয়েছে আমার দিক থেকে দিক-নির্দেশনা।
-
শিক্ষার্থী:
-----------
আমি
ব্যাংক
জবের
জন্য
প্রস্তুতি নিচ্ছি
তো
ব্যাংকে ১০০/১২০ নম্বর লিখিত
থাকে
(অনুবাদ
+ ফোকাস
রাইটিং
+ রচনা
+ রিডিং
কমপ্রিহিনশন)।
আমার
সমস্যা
হচ্ছে
আমি
ইংরেজি
বাক্য
তৈরি
করতে
পারিনা
তাই
অনুবাদও করতে
পারিনা। এই
সমস্যাগুলোর একটাই
সমাধান
আমার
কাছে
মনে
হয়
যে,
আমি
যদি
গ্রামার রিলেটেড সবকিছু
বিস্তারিত জানি
এবং
নিয়মিত
লিখি
এবং
এই
লেখাগুলো পড়ে
যদি
কেউ
ভুলগুলো ধরায়ে
দেয়
তাহলে
আমার
জন্য
ভালো
হয়।
মূলকথা,
আমার
সমস্যা
১.
ইংরেজি
বলতে
+ লিখতে
পারিনা। আর
আমি
একাই
পড়তে
চাই,
আমার
সাথে
কেউ
নেই।
-------------------
আমি:
----------
আপনার ভাষ্যমতে
আপনার সমস্যা: “আমার সমস্যা
হচ্ছে আমি ইংরেজি
বাক্য তৈরি করতে
পারিনা তাই অনুবাদও
করতে পারিনা।
আমার সমস্যা
১. ইংরেজি বলতে
+ লিখতে পারিনা।”
আপনার ভাষ্যমতে
আপনার সমাধান: “এই সমস্যাগুলোর
একটাই সমাধান আমার
কাছে মনে হয়
যে, আমি যদি
গ্রামার রিলেটেড
সবকিছু বিস্তারিত জানি
এবং নিয়মিত লিখি
এবং এই লেখাগুলো
পড়ে যদি কেউ
ভুলগুলো ধরায়ে
দেয় তাহলে আমার
জন্য ভালো হয়।”
-
প্রথমেই আপনাকে
ধন্যবাদ এই জন্য যে, আপনি আপনার সমস্যা ধরতে পেরেছেন এবং এর সমাধানও বুঝতে পেরেছেন।
আসলেই আপনার (এবং অধিকাংশের) সমস্যা এটাই। আমরা যখন নিজের মত করে শুদ্ধভাবে লিখতে পারবো
এবং লিখা শেখার পাশাপাশি কার্যকর গ্রামার টা আত্মস্থ করতে পারবো তখনই সমস্যার (আপনার
ক্ষেত্রে চাকুরি প্রাপ্তি) প্রায় ৬০ ভাগ সমাধান হয়ে যায়। ০ থেকে ৬০ ভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ মূল ভিত্তি ৬০ ভাগ পর্যন্ত ঠিকঠাকমত না থাকলে বাকী ৪০ ভাগ মানে চাকুরির জন্য বিশেষভাবে
অনুশীলন করেও তেমন কোনো লাভ নেই। চাকুরি (ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি)প্রত্যাশীরা ঠিক এ
ভুলটাই করে থাকে। ভিত্তি ৬০ভাগ পোক্ত না করে ৩/৬ মাস ধরে চাকুরির প্রস্তুতি নিতে থাকে।
ফলে যা হবার তাই হয়।
এখন প্রশ্ন হলো,
কিভাবে ০ থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত পোক্ত করা যাবে?
আমি আপনাকে দু’টি
অপশন বিস্তারিত ব্যাখ্যা করছি। কোন অপশন বাছাই করবেন সেটা আপনার বিষয়।
অপশন বলার আগে
আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলা দরকার…
আধাআধি কোনো জিনিস
জানা খুব বাজে জিনিস। যেটা জানা দরকার সেটা একদম ০ থেকে আস্তে আস্তে পাকা পোক্তভাবে
প্রতিটি বিষয় জানতে হবে বুঝতে হবে। সিড়ির প্রতি ধাপে পা রাখতে হবে। পাকা পোক্তভাবে
যখন এগুতে থাকবেন তখন যত এগুবেন ততই আপনি বুঝতে পারবেন সামনে আপনার কি করা কর্তব্য।
একটা বই ভালো করে অনুশীলন করতে থাকলে ঐ বই শেষ করার আগেই বুঝে যাবেন এর পর কোন বই
পড়া দরকার। ০ থেকে ৬০ ভাগ মানে বেইসিক থেকে মধ্যম পর্যায় পর্যন্ত কেউ যদি সঠিক পদ্ধতিতে
অনুশীলন করে তবে বাকী ৪০ ভাগের জন্য কোনো শিক্ষকের/মেন্টরের/গুরুর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন
পড়ে না। সে নিজেই তখন নিজেকে চালিত করতে পারে। বিশেষ করে এই ইন্টারনেটের যুগে সেটার
সম্ভাব্যতা তো আরো বেশি। লক্ষ্য করবেন ক্লাশ ওয়ান থেকে এইট/নাইন পর্যন্ত মূলত শিক্ষকরা
হাতে ধরে শেখান। এরপর আর শিক্ষকের তেমন গুরুত্ব থাকে না। তখন শিক্ষকের দায়িত্ব হয় স্রেফ
পথ দেখিয়ে দেয়া। এর বেশি কিছু নয়। কেউ যদি ক্লাশ ওয়ান থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ফাঁকি
না দিয়ে সঠিকভাবে পড়াশোনা (বাংলা, গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান) করে তাহলে তার আর শিক্ষকের
প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু যদি কেউ এই ক্লাশগুলোতে ফাঁকি দেয় কিংবা গুণগত পড়াশোনা
না করে তখনই তার শিক্ষকের প্রয়োজন হয়। স্কুল কলেজ শেষ করেও কেউ যদি ইংরেজিতে/গণিতে/বাংলায়/বিজ্ঞানে
দুর্বল হয় তখন বুঝতে হবে নিচের ক্লাশগুলোয় তার পড়াশোনায় মারাত্মক ফাঁক আছে।
-
এখন সে যদি এই
বিষয়গুলোতে ভালো করতে চায় তাহলে তার কী করা উচিত?
-
হিসাব একদম সহজ।
একদম ক্লাশ ওয়ান তথা শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। স্কুল-কলেজে যেসব আধাআধি জিনিস শিখেছে
সেগুলো মাথা থেকে একদম ঝেড়ে ফেলে দিয়ে মাথাটাকে ফাঁকা করতে হবে। পুরোপুরি সব ভুলে যেতে
হবে। তারপর ০ থেকে শুরু করতে হবে। এবং ৬০ভাগ পর্যন্ত না আসা পর্যন্ত চাকুরি ইত্যাদির
প্রত্যাশা শিকেয় তুলে রাখতে হবে। ৬০ ভাগ সম্পন্ন করার পর সে চাকুরির(বিশ্ববিদ্যায় ভর্তি
ইত্যাদি) পরীক্ষায় বসার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। তার আগে নয়। আমি
”চাকুরি পাওয়ার” যোগ্যতার কথা বলিনি। আমি বলেছি ”প্রস্তুতি নেয়ার” যোগ্যতা। মানে বাকী
৪০ভাগ প্রস্তুতি শুরু করার যোগ্যতা অর্জন করলো। ৪০ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর চাকুরি
পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। তার আগে নয়।
-
আমি আবারও বলছি,
কেউ যদি ০ থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত যথাযথ প্রক্রিয়ায় পড়াশোনা করে থাকে তাহলে বাকী ৪০ ভাগের
জন্য কোনো শিক্ষক/মেন্টর ইত্যাদির প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। ৬০ভাগ পর্যন্ত যাওয়ার পরও
যদি কেউ দিশা না পায় তাহলে হলফ করে বলা যায় তার পড়াশোনার পদ্ধতিতে গলদ রয়েছে। তখন তার
উচিত হবে আবার শূন্য থেকে শুরু করা।
-
০ থেকে ৬০ ভাগ
পোক্ত করার জন্য হাতে অন্তত ১ বছর সময় নিতে হবে। বাকী ৪০ ভাগের জন্য অন্তত ৩ থেকে ৬
মাস। চাকুরির জন্য বিশেষায়িত প্রস্তুতি নিতে হবে ৩-৬ মাস ধরে। দু:খ জনক বিষয় হলো আমরা
৬০ভাগ ঠিক না করে ৪০ ভাগের পেছনে ছোটা শুরু করি। ফলাফল ভুক্তভোগীরাই জানে।
এখন প্রশ্ন হলো
কিভাবে শুন্য থেকে করা যায়। আমি এখানে দু’টি অফশন ব্যাখ্যা করছি। ভালো করে বুঝতে হবে।
তারপর নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে।
-
অপশন-১
বই থেকে শেখা।
-
সর্বোত্তম পন্থা।
-
বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে
আমাদের হাতে অসাধারণ একটা উৎস আছে। সেটা হলো – S M Zakir Hussain।
-
গ্রামারের উপর
ওনার সব ক’টি বই কিনে ফেলতে হবে। প্রতিটা বই শুয়ে বসে ঘেটে দেখতে হবে। নিজে নিজে বোঝার
চেষ্টা করতে হবে কোনো বইটি দিয়ে আপনার শুরু করা উচিত। আপনার বর্তমান ইংরেজি জ্ঞানের
অবস্থা, মেধার গুণগত মান একমাত্র আপনিই জানেন। আর জেনে থাকবেন যে শিক্ষক আপনাকে দীর্ঘদিন
পড়িয়েছেন। এছাড়া অন্য কারো পক্ষে আপনার অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। এমনকি আপনার বাবা-মায়ের
পক্ষেও নয় যদি না তাঁরা আপনাকে পড়িয়ে থাকেন। যে বইটা আপনার জন্য উপযুক্ত মনে হবে বা
আপনি যে বইটি পড়ার/অনুশীলন করার উপযুক্ত সে বইটি একেবারে প্রচ্ছদ থেকে পড়া মানে অনুশীলন
করা শুরু করবেন। অনুশীলন করবেন অবশ্যই খাতায় লিখে লিখে। এভাবে যদি কঠোর পরিশ্রমের মধ্য
দিয়ে আপনি এগুতে থাকেন তবে একটা সময় আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন এরপর কি পড়া উচিত, কোন
বই পড়া উচিত। বই কিনতে থাকবেন আর অনুশীলন করতে থাকবেন। আপনার টার্গেট ৬০ভাগ দক্ষতা
অর্জন করা। এর আগে খামোখা এদিক-সেদিক, চাকরি-বাকরি
ইত্যাদি নিয়ে অস্থির হওয়ার মানে আছে বলে আমার মনে হয় না।
-
অপশন-২
কোনো ভালো আন্তরিক
শিক্ষকের কাছে কোর্স করা।
-
এখানে দু’টি বিষয়
প্রণিধানযোগ্য – এক. আন্তরিক শিক্ষক, দুই. কোর্স।
-
একজন শিক্ষক যত
জ্ঞানীই হোক, যত বেশিই জানুক না কেন তিনি যদি আন্তরিক না হন তবে শিক্ষার্থীর তেমন কোনো
উপকারই হয় না। শিক্ষক কত বেশি জানে তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো কতটা কার্যকরভাবে জানাতে,
উপস্থাপন করতে পারে। এবং অন্যকে জানানো, শেখানো, অন্যের উপকার করা, কাজে লাগা ইত্যাদি
ক্ষেত্রে আন্তরিকতা অপরিহার্য। লক্ষ্য করলে দেখবেন আন্তরিক শিক্ষকরা অত্যন্ত জ্ঞানী
হন, মেধাবী হন। তাঁদের জ্ঞানের চাকচিক্য কম থাকে, গভীরতা বেশি তাকে, তাঁরা নিজের জানাকে
উপস্থাপন না করে ছাত্রদের জানার পরিধি ও গভীরতা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হন।
-
আর কোর্স হলো
একটি সুপরিকল্পিত পন্থায় ধাপে ধাপে কোনো সুনির্দিষ্ট সফলতার দিকে ধাবিত হওয়া। আজকে
ভয়েস কালকে ন্যারেইশন পরশু পদ এভাবে লক্ষ্যহীনভাবে পড়লে শেষপর্যন্ত ফলাফল লবডংকা। আমাদের
স্কুল-কলেজে এলোপাথাড়ি পড়ানোর কারণেই শিক্ষার্থীরা কিছুই শিখতে পারে না। কোর্স আকারে
ধাপে ধাপে এগুলে একটা সময় লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ ও সম্ভব হয়।
-
এখন কথা হলো শিক্ষক
আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে মানে শিক্ষক দ্বারা আপনি কিভাবে লাভবান হবেন? একটা
উদাহরণ দেই..
-
ধরুন আপনি আপনার
বাড়ি থেকে ঢাকা যাবেন। আপনি জীবনে কখনও ঢাকা যাননি। একজন শিক্ষকের কাছে গেলেন ঢাকা
যাওয়ার জন্য। শিক্ষক আপনাকে ঘরে বসে ঢাকা যাওয়ার বিষয়ে আপনাকে শেখাবেন। ঢাকা আপনি তিনটি
পথে যেতে পারেন – স্থল(বাস), নদী(লঞ্চ) এবং আকাশ(বিমান) পথ। কোন পথে গেলে কত খরচ, কি
সুবিধা, কি অসুবিধা ইত্যাদি বিষয় শিক্ষক আপনাকে শিখিয়ে দেবেন। ভ্রমন পথে কি করলে আপনি
বিপদে পড়বেন, কি করলে বিপদ থেকে উদ্ধার পাবেন ইত্যাদি নিরাপত্তামূলক বিষয়গুলোও শিক্ষক
আপনাকে শেখাবেন। একটু আন্তরিক শিক্ষক হলে আপনাকে হাতে ধরে ঘর হতে বাস স্টেশন পর্যন্ত
নিয়ে যাবেন। আরেকটু আন্তরিক হলে ভালো একটা বাসে উঠিয়ে কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ শেষবার
মনে করিয়ে দেবেন। অর্থাৎ শিক্ষক আপনাকে সফলতার বাসে তুলে দেবেন। সফলতার বাকী পথটুকু
আপনাকে একাকী-ই যেতে হবে।
-
একজন শিক্ষক খাবার
মুখরোচক করে তৈরি করবেন। আরেকটু আন্তরিক শিক্ষক খাবার প্লেটে নিয়ে নিজ হাতে মেখে দেবেন।
আরেকটু আন্তরিক হলে খাবার দলা পাকিয়ে আপনার মুখে ঢুকিয়ে দেবেন। আরেকটু আন্তরিক হলে
একটা লাঠি দিয়ে ঠেসে ঠেসে গলার ভেতরে খাবার চালিয়ে পেটের ভেতর ফেলে দেবেন। এরপর কিন্তু
হজমের দায়িত্ব পুরোপুরি আপনার এবং আপনার পেটের।
-
শিক্ষকের আরও
একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীর দৃষ্টিকোণকে একটা যথাযথ কোণে স্থাপন
করা। একটা বস্তুকে মানুষ তখনই যথাযথভাবে অবলোকন করতে পারে যখন যথাযথ দৃষ্টিকোণ থেকে
ঐ বস্তুকে দেখতে পারে। যেমন- একটা রুলারকে তার দৈর্ঘ্য বরাবর দেখলে স্রেফ একটা সরললেখা
মনে হবে। যখন চ্যাপ্টা দিক (দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সহ) বরাবর দেখবে তখনই সেটাকে রুলার মনে
হবে। শিক্ষকের দায়িত্ব জীবনের প্রতিটি বস্তুকে দেখার যথাযথ দৃষ্টিকোণ গড়ে দেয়। ভালোকে
ভালো, মন্দকে মন্দ হিসেবে তুলে ধরা। কিভাবে দেখতে হয়ে সেটা শেখানো শিক্ষকের দায়িত্ব।
-
০ থেকে ৬০ ভাগের
মধ্যে শিক্ষক এর দায়িত্ব অর্ধেক। আর অর্ধেক এর দায়িত্ব শিক্ষার্থীর। এর মধ্যে অভিভাবকের
দায়্ত্বি রয়েছে। সেটাকে এখানে হিসাবের বাইরে রাখলাম। তার মানে দাঁড়াচ্ছে শিক্ষকের কাছে
পড়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীকে প্রচুর বই রাখতে হবে এবং নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে সেগুলোকে
অনুশীলন করতে হবে। এটা বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি/চাকুরি প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে
অবশ্য প্রযোজ্য।
-
তার মানে শিক্ষকের
সাহায্য নিলেও সাথে বইও কিনতে হবে, অনুশীলন করতে হবে। শিক্ষকের সহায়তা নিলে এটাই সুবিধা
যে, যে বিষয়গুলো বই পড়ে পড়ে ঠেকতে ঠেকতে শিখতে হত, প্রচুর সময় ব্যয় করতে হত সেটা সহজে
না ঠেকে অল্প সময় ব্যয় করেই শেখা যাচ্ছে। এটাই হলো সবচেয়ে বড় সুবিধা। যেটা শিখতে লাগতো
৪ বছর সেটাতে লাগবে হয়তো দুই/তিন বছর। সময় কিন্তু লাগবেই যেভাবেই শেখা হোক না কেন।
একটু কম আর বেশ।
-
এক্ষণে আরেকটা
বিষয় মাথায় ঢোকাতে হবে – যে জিনিস শিখতে/করতে ৩ বছর সময় লাগে কৌশল প্রয়োগ করে হয়তো
আড়াই বছরে করা সম্ভব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটা ৩ মাসে করা সম্ভব নয়। যদি তা-ই হতো তবে
S.S.C পাশ করার জন্য মানুষ দশ বছর সময় নিত না, দশ মাসেই শেষ করার চেষ্টা করতো।
-
উল্লেখ্য, এখানে
আমি ০ থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত শিক্ষকের কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার কথা বলেছি। এরপরের ৪০ ভাগের
ক্ষেত্রে শিক্ষকের তেমন কোনো ভূমিকা আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ এই ৪০ ভাগের বেশিরভাগ
অংশ জুড়েই রয়েছে অনুশীলন। বিভিন্ন উৎস যেমন- ভালো বই, ইন্টারনেট ইত্যাদি থেকে প্রচুর
অনুশীলন করাই উত্তম। সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে ফেইসবুক গ্রুপ, পেইজ ইত্যাদি।
-
তাহলে শিক্ষকের
সহায়তা নেয়ার সুবিধাগুলো বুঝলাম।
-
আর অসুবিধা হলো
৩টি:
১. শিক্ষকের সহায়তা
নেয়ার পরও বইয়ের সহায়তাও নিতে হবে।মানে বই কেনার পেছনে টাকা ব্যয় করতে হবে, অনুশীলন
করে সময় ব্যয় করতে হবে।
২. শিক্ষকের গুরুদক্ষিণা
দিতে হবে। অর্থাৎ বইয়ের খরচের সাথে শিক্ষকের খরচও যোগ হবে।
৩. শুধু বই পড়ে
শিখলে যেমন প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে, সময় ব্যয় করতে হবে, তেমনি শিক্ষকের সহায়তা নিলে
একইভাবে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে, সময় ব্যয় করতে হবে। সুবিধা এতটুকু যে, হয়রানির পরিমাণ
কম হবে, অল্প সময়ে দ্রুত সফলতার গাড়িতে ওঠা সম্ভব হবে। পরিশ্রমের হার ও সময় ব্যয় কোনোটাই
কমবে না।
-
আমাদের শিক্ষার্থীরা
মনে করে, শিক্ষকের কাছে গেলে বুঝি পরিশ্রম করতে হবে না, অনুশীলন করতে হবে না। শিক্ষক
একটা ’শিক্ষাবড়ি’ খাইয়ে দেবেন আর অমনি শিক্ষার্থী বিশাল জ্ঞানী হয়ে যাবে, পরীক্ষায়
পাশ করে ফেলবে, চাকুরিতে টিকে যাবে। এ যেন শিক্ষককে টাকা দিয়ে সমস্ত জ্ঞান কিনে নিজের
করে ফেললাম। টাকা দিয়ে শিক্ষকের সময়, শ্রম কেনা যায় কিন্তু জ্ঞান কেনা বা অর্জন করা
যায় না। জ্ঞান অর্জন কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে শিক্ষার্থীর নিজেকেই।
--
উপরের আলোচনার
আলোকে শিক্ষার্থীর নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন পথে হাঁটা তার জন্য ফলদায়ক হবে।
Comments
Post a Comment