পর্ব-৪
পার্কিং এ থাকা (থেকে থাকা)গাড়িকে এগিয়ে
নিয়ে যাওয়ার (Moving off) উত্তম পন্থা
প্রথমেই স্মরণ
করিয়ে দিচ্ছি আমরা সমতল রাস্তায় চর্চা করছি। অর্থাৎ নিম্নে বর্ণিত পন্থা দু’টি সমতল
রাস্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আশা করছি, আপনারা
আগের পর্বগুলো ভালোভাবে শিখেছেন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে চর্চা করেছেন। ভালোভাবে না শিখে,
না চর্চা করে সামনে শিখতে গেলে মাথায় জট পাকিয়ে যেতে পারে। যদিও সহজ বিষয় কিন্তু প্রাথমিক
বিষয়ে ভালোভাবে শেখা এবং চর্চা না হলে মধ্যম পর্যায়ের বিষয় জটিল মনে হতে পারে।
আমরা যখন প্রথম
গাড়ি চালনা শিখিয়েছিলাম তখন নতুনদের কথা চিন্তা করে জটিলতা পরিহার করে একটি পন্থা দেখিয়েছিলাম।
এখন আমরা আরো দু’টি পন্থা দেখাবো। বাস্তব ক্ষেত্রে এ দু’টি পন্থা প্রয়োজন মত ব্যবহার
করা যাবে।
আমাদের গাড়িটি
একটি সমতল রাস্তায় পার্ক করে রাখা আছে। এ অবস্থা থেকে গাড়ির ইঞ্জিন চালু করে আগে বাড়াবো।
নিচের পন্থা অবলম্বনের পূর্বে সকল পূর্ব প্রস্তুতি সেরে ফেলুন।
পন্থা-১
১. নিয়মানুযায়ী
ইঞ্জিন চালু করুন।নিয়ম মনে না থাকলে পর্ব-২
এ “প্রথম গাড়ি চালনা” অংশে দেখুন।
২. ক্লাচ চেপে
ফার্স্ট গিয়ারে নিন। ক্লাচ চেপে রাখুন।
৩. পার্কিং ব্রেইক
অফ করুন।
৪. এক্সিলারেটর
চেপে 1500rpm এ রাখুন। rpm মিটারে দেখুন।
৫. ক্লাচ আস্তে
আস্তে ছেড়ে বাইটিং পয়েন্টে আনুন।গাড়ি সামনে বাড়তে শুরু করবে।
৬. ক্লাচ বাইটিং
পয়েন্টে ২/৩ সেকেন্ড ধরে রাখুন। তারপর ধীরে ধীরে ছেড়ে দিন। গাড়ির গতি ধীরে ধীরে বাড়তে
থাকবে। এক্সিলারেটর কিন্তু 1500rpm অবস্থায় ধরে রাখা আছে।
৭. এ অবস্থায়
গাড়ি মোটামুটি ০ থেকে ৭/৮ মাইল/ঘন্টা পর্যন্ত গতিবেগ পাবে। এই গতি ধরে রাখতে চাইলে
এক্সিলারেটর একই জায়গায় চেপে রাখুন।(গতি আরো বাড়াতে চাইলে আরো একটু নিচে চাপুন।)
৮. এক্সিলারেটর
ছেড়ে ব্রেইক চেপে ধরুন।
৯. গতি ১০ এর
নিচে আসলে ক্লাচ চেপে ধরুন।
১০. ব্রেইক একটু
একটু করে কষে গাড়ি থামিয়ে ফেলুন।
১১. নিয়মানুযায়ী
গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করুন।(নিয়ম মনে না থাকলে আগের পর্ব পড়ে নিন।)
পার্কিংয়ে থাকা
বা থেমে থাকা গাড়িকে ধীরে সুস্থে এগিয়ে নেয়ার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
কিন্তু আমাদেরকে
প্রায়শই স্টার্ট নিয়েই খুব দ্রুত এগুনোর প্রয়োজন পড়তে পারে। যেমন ধরুন, আপনি রাস্তার
সংযোগ স্থলে, ট্রাফিক মোড়ে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষায় আছেন সংযোগ পার হওয়ার জন্য। যখনই পার
হওয়ার সুযোগ আসবে ঠিক তখনই আপনাকে দ্রুত সংযোগস্থল পার হতে হবে।
উপরের পন্থায়
গাড়ি স্টার্ট নেয়ার পর গতিবেগ ০ থেকে ধীরে ধীরে বেড়ে ৭/৮ মাইল/ঘন্টা হতে পারে। তাহলে
এখন আমাদেরকে এমন পন্থা অবলম্বন করতে হবে যাতে স্টার্ট নেয়ার সাথে সাথে খুব দ্রুত গতিবেগ
০ থেকে ১০/১১ হয়ে যায়।পন্থা-২ দেখুন।
পন্থা-২
১. নিয়মানুযায়ী
ইঞ্জিন চালু করুন।
২. ক্লাচ চেপে
ফার্স্ট গিয়ারে নিন। ক্লাচ চেপে রাখুন।
৩. পার্কিং ব্রেইক
অফ করুন।
৪. এক্সিলারেটর
চেপে 1500rpm এ রাখুন। rpm মিটারে দেখুন।
৫. ক্লাচ আস্তে
আস্তে ছেড়ে বাইটিং পয়েন্টে আনুন।গাড়ি সামনে বাড়তে শুরু করবে।
৬. বাইটিং পয়েন্টে
২/৩ সেকেন্ড ধরে রাখুন ।
৭. একদিকে ক্লাচ
ধীরে ধীরে ছাড়তে থাকুন, অপরদিকে এক্সিলারেটর আগে যে জায়গায় ছিল তার থেকে আরেকটু নিচে
দাবাতে থাকুন। ক্লাচ ছাড়া এবং এক্সিলারেটর দাবানো একই সংগে হবে। এক্সিলারেটর যত বেশি
দাবাবেন তত বেশি সীমায় গতিবেগ উঠবে আর সেই সংগে ক্লাচ যত দ্রুত ছাড়বেন তত দ্রুত গতিবেগ
বাড়তে থাকবে। এটা একটা আনুপাতিক বিষয়। বার বার চর্চা করে বোঝার চেষ্টা করবেন। (মনে
রাখবেন, এক্সিলারেটর যতটুকু দাবিয়েছেন তার অনুপাতে ক্লাচ যদি বেশি দ্রুত ছেড়ে দেন তবে
গাড়ি ঝাঁকি দিতে পারে বা ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ বেশি এক্সিলারেটর বেশি
দ্রুত ক্লাচ ছাড়া, কম এক্সিলারেটর কম দ্রুত ক্লাচ ছাড়া।)
বন্ধনীর অংশটুকু
বুঝতে না পারলেও ক্ষতি নেই। বাস্তবে যখন চর্চা করবেন তখন বুঝে এসে যাবে।
৮. এক্সিলারেটর
ছেড়ে ব্রেইক চেপে ধরুন।
৯. গতি ১০ এর
নিচে আসলে ক্লাচ চেপে ধরুন।
১০. ব্রেইক একটু
একটু করে কষে গাড়ি থামিয়ে ফেলুন।
১১. নিয়মানুযায়ী
গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করুন।(নিয়ম মনে না থাকলে আগের পর্ব পড়ে নিন।)
এ পন্থায় গাড়িকে
আগে বাড়ালে গতিবেগ তুলনামূলক অল্প সময়ের মধ্যে ০ থেকে ১০/১১ মাইল উঠে যাবে।
অন্যদিকে, পন্থা-১
এ ধীরে ধীরে ০ থেকে ৭/৮ মাইল উঠবে।
পন্থা-১ এর সাথে
পন্থা-২ এর প্রক্রিয়াগত পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন? বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করুন। বুঝেশুনে
মাথায় সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন। তাত্ত্বিক জ্ঞান যত গোছালো ভাবে মাথায় রাখতে পারবেন
বাস্তবক্ষেত্রে তত দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন।
Comments
Post a Comment