পর্ব-৫
গাড়ির গতি বাড়ানোর উত্তম পন্থা
মনে রাখবেন, আমরা
সমতল ভূমিতে চালাচ্ছি।
১. নিয়মানুযায়ী
ইঞ্জিন চালু করুন।নিয়ম মনে না থাকলে পর্ব-২
এ “প্রথম গাড়ি চালনা” অংশে দেখুন।
২. ক্লাচ চেপে
ফার্স্ট গিয়ারে নিন। ক্লাচ চেপে রাখুন।
৩. পার্কিং ব্রেইক
অফ করুন।
৪. এক্সিলারেটর
চেপে 1500rpm এ রাখুন। rpm মিটারে দেখুন।
৫. ক্লাচ আস্তে
আস্তে ছেড়ে বাইটিং পয়েন্টে আনুন।গাড়ি সামনে বাড়তে শুরু করবে।
৬. ক্লাচ বাইটিং
পয়েন্টে ২/৩ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এক্সিলারেটর কিন্তু হালকা(1500rmp) চেপে ধরা আছে।
৭. এবার একদিকে
ক্লাচ ধীরে ধীরে ছাড়তে থাকুন, অপরদিকে এক্সিলারেটর আগে যে জায়গায় ছিল তার থেকে আরেকটু
নিচে দাবাতে থাকুন। ক্লাচ ছাড়া এবং এক্সিলারেটর দাবানো একই সংগে হবে। একদিকে ছাড়বেন
আরেক দিকে দাবাবেন। মসৃণভাবে ছাড়তে ছাড়তে ক্লাচ পুরোপুরি ছেড়ে দিন।(পর্ব-৪ এর পন্থা-২)
এ প্রক্রিয়ায় (পন্থা-২) চলা শুরু করলে খুব দ্রুত গতিবেগ ০ থেকে ১০ এর উপরে চলে যাবে।
আরো ধীরে শুরু
করার জন্য আমরা পর্ব- ৪ এর পন্থা-১ অবলম্বন
করতে পারি এভাবে….
ক্লাচ বাইট পয়েন্ট
থেকে ধীরে ধীরে ছেড়ে দিন। ক্লাচ পুরোপুরি ছেড়ে দেয়ার পর গতি বাড়ানোর জন্য এক্সিলারেটর
একটু দাবান।
এখন গাড়ির গতি
১০ এর উপরে চলে যাবে। তার মানে এখনই সময় ফার্স্ট থেকে সেকেন্ড গিয়ারে নেয়ার।
উর্ধ্ব গিয়ার-এ পরিবর্তন (Changing
upgears)
আমরা পর্ব-৩ এর গাড়ির গতি বাড়ানো অংশে উর্ধ্ব
গিয়ার পরিবর্তন এর একটি সহজ পন্থা দেখিয়েছিলাম। ঐ সহজ পন্থায় গিয়ার পরিবর্তন করলে
গিয়ার পরিবর্তনের মুহূর্তে গাড়ির গতি সাময়ীকভাবে হালকা একটু কমে যেতে পারে। এ পর্যায়ে
এসে আমরা আরো দু’টি তুলনামূলক কঠিন পন্থা(৯(খ) এবং ৯(গ)) জেনে নেবো। এই পন্থাগুলোতে
গতি কমে আসার সম্ভাবনা কম। পরামর্শ হলো সহজ পন্থাটিকেই ভালোভাবে চর্চা করুন। তারপর
এ দু’টি পন্থা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করুন। ৯(ক), ৯(খ) অথবা ৯(গ) যেকোনো একটি পন্থা
ব্যবহার করা যাবে।
প্রশিক্ষনার্থীর
সুবিধার্থে পূর্বে আলোচিত সহজ পন্থাটি এখানে আবার দেয়া হলো ৯(ক) এ।
৯(ক). এক্সিলারেটর পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে ক্লাচ পুরোপুরি
চেপে ধরুন। গিয়ার ফার্স্ট থেকে সেকেন্ডে আনুন। ক্লাচ ধীরে ধীরে ছেড়ে বাইটিং পয়েন্টে
আনুন। ২/৩ সেকেন্ড সেখানে ধরে রেখে পুরোপুরি ছেড়ে দিন। ক্লাচ ছেড়েই এক্সিলারেটর আগে
ঠিক যেখনটায় চেপে ধরেছিলেন এখনও ঠিক সেখান পর্যন্ত চেপে ধরুন। ফলে গতি বাড়তে থাকবে।
পুরো কাজটি খুব
দ্রুততার সাথে করতে পারলে এ পন্থায়ও গাড়ির গতি ধীর হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। বার বার
অনুশীলনের মাধ্যমেই এটা সম্ভব।
অথবা, ৯(খ). আমরা কিন্তু হালকাভাবে এক্সিলারেটর চেপে
ধরে আছি।এ অবস্থায় একই সংগে(যুগপৎভাবে) এক্সিলারেটর ছাড়বেন এবং ক্লাচ চাপবেন। এক্সিলারেটর
পুরোপুরি উপরে এনে ছেড়ে দেবেন আর ক্লাচ পুরোপুরি নিচে দাবিয়ে ধরবেন। গিয়ার ফার্স্ট
থেকে সেকেন্ডে নিয়ে যান। এবার ক্লাচ একদিকে ছাড়তে থাকবেন অপরদিকে এক্সিলারেটর চেপে
ধরবেন। ঠিক আগে যেখানটায় এক্সিলারেটর চেপে ধরেছিলেন ঠিক সেখান পর্যন্ত চেপে ধরবেন।
ফলে গতি বাড়তে থাকবে।(see-saw method)
অথবা, ৯(গ). এক্সিলারেটর হালকা চেপে রাখা অবস্থায়ই ক্লাচ
পুরোপুরি চেপে ধরুন। এক্সিলারেটর কিন্তু একই জায়গায় চেপে ধরে রাখতে হবে মানে স্থির
ধরে রাখতে হবে উপর-নিচ করা যাবে না। ক্লাচ চেপে ধরার সাথে সাথেই এক্সিলারেটর সমৃণভাবে
ছেড়ে দিন।ফার্স্ট গিয়ার থেকে সেকেন্ড গিয়ারে নিয়ে যান।গিয়ার পরিবর্তন করার পর ক্লাচ
ধীরে ধীরে বাইটিং পয়েন্ট এ আনতে হবে।বাইটিং পয়েন্টে এনে ক্লাচ ২/৩ সেকেন্ড ধরে রাখতে
হবে।২/৩ সেকেন্ড পর ক্লাচ ধীরে ধীরে ছাড়তে হবে। অন্যদিকে এক্সিলারেটর ধীরে ধীরে চাপতে
হবে। অর্থাৎ ক্লাচ ছাড়া এবং এক্সিলারেটর চাপা একই সংগে করতে হবে।
অথবা, ৯(ঘ). এক্সিলারেটর পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে ক্লাচ পুরোপুরি
চেপে ধরুন। গিয়ার ফার্স্ট থেকে সেকেন্ডে আনুন। ক্লাচ পুরোপুরি চেপে রাখা অবস্থায় এক্সিলারেটরে
হালকা একটু ঠোকর দিন।মানে দ্রুততার সাথে হালকা চাপ দিয়েই ছেড়ে দিন। তারপর ক্লাচ বাইট
পয়েন্টে এনে ২/১ সেকেন্ড রেখে ছেড়ে দিন।
৯(ক) অথবা ৯(খ) অথবা ৯(গ) অথবা ৯(ঘ) পন্থা অবলম্বনের পর এক্সিলারেটর
চেপে গাড়ির গতি আস্তে আস্তে বাড়াতে বাড়াতে ১০ থেকে ২০ বা তার কাছাকাছি নিয়ে আসুন। এবারও
একই ঘটনা ঘটবে। ইঞ্জিনের শব্দ আগের মত পাল্টে যাবে, একটু যেন ঝাঁকি দিতে থাকবে। শব্দ
শুনে আপনাকে বুঝে নিতে হবে গিয়ার পরিবর্তনের সময় হয়েছে।
আমাদের গতি ২০
বা তার কাছাকাছি।
১০. এবার আবার
৯ নং ধাপ অনুযায়ী গিয়ার সেকেন্ড থেকে থারডে নিয়ে যান।
এরপর গতিবেগ ৩০
বা তার কাছাকাছি এনে আগের প্রক্রিয়ায় (৯ নং ধাপ) গিয়ার পরিবর্তন করে ফোরথ এ আনুন।
এরপর ৪০ বা তার
কাছাকাছি এনে একই নিয়মে ফিফথ গিয়ারে রাখুন।
এভাবে আপনি গাড়ির
গতি বাড়াতে পারবেন।
এ পর্বে আপনি
শিখলেন কিভাবে সমৃণভাবে গতি বাড়ানো হয়। অন্যভাবে বললে - কিভাবে গিয়ার বাড়ানো (পরিবর্তন
করা) যায় সেটা শিখলেন।
গাড়ির গতি কমানোর উত্তম পন্থা
ধরুন, এখন আমরা
ফিফথ গিয়ারে ৫০ মাইল বেগে চলছি। আমরা ধীর ধীরে গাড়ির গতি কমাবো।
এই কাজটা আমরা
দু’টি পন্থায় করতে পারি।
পন্থা-১
গতি কমানোর সাথে
সাথে গিয়ার নামাতে থাকা
ব্রেইক আস্তে
আস্তে চাপতে থাকুন। গতি যখন ৫০ থেকে ৪০ এ আসবে তখন ক্লাচ চেপে ফিফথ গিয়ার থেকে ফোরথ
গিয়ারে আনুন।
ক্লাচ আস্তে আস্তে
ছেড়ে বাইটিং পয়েন্টে এনে ২/৩ সেকেন্ড ধরে রেখে পুরোপুরি ছেড়ে দিন। ব্রেইক কিন্তু ছাড়বেন
না। বরঞ্চ আরো একটু দাবান। ফলে গতি আরো কমে আসবে। যখন ৩০ এ আসবে তখন ক্লাচ চেপে একই
নিয়মে থার্ড গিয়ারে আনুন। এভাবে ২০ এ আসলে সেকেন্ড এ আনুন। মোদ্দা কথা হলো গতিসীমা
অনুযায়ী গিয়ার পরিবর্তন করুন। ১০ বা ১০ এর কাছাকাছি গতি নিয়ে আসুন। ঠিক যেখানটায় থামাতে
চাচ্ছেন তার আগে মোটামুটি দুই গাড়ি পরিমাণ দূরত্বে ক্লাচ পুরোপুরি চাপুন, ফার্স্ট গিয়ারে
আনুন এবং ব্রেইক আরো কষে ধরে গাড়ি থামান। (অথবা ক্লাচ ও ব্রেইক কষে গাড়ি পুরোপুরি থামানোর
পরও ফার্স্ট গিয়ারে আনতে পারেন।)
আবার চলতে চাইলে ব্রেইক ছেড়ে দিয়ে এক্সিলারেটর হালকা চেপে
ধরুন(1500rpm)।ক্লাচ ধীরে ধীরে বাইটিং পয়েন্টে আনুন। ২/৩ সেকেন্ড সেখানে ধরে রাখুন।
তারপর পুরোপুরি ছেড়ে দিন। গাড়ি আবার চলতে শুরু করবে।
অথবা গাড়ির ইঞ্জিনসহ পুরোপুরি বন্ধ করে
দিতে চাইলে গিয়ার ফার্স্ট থেকে নিউট্রলে নিয়ে আসুন। ক্লাচ ছেড়ে দিন। পার্কিং ব্রেইক অন করুন।
পায়ের ব্রেইক ছেড়ে দিন। চাবি বাম দিকে(ঘড়ির কাটা বিপরীত দিকে) ঘুরিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ(অফ)
করুন। তারপর আরো একটু মোচড় দিয়ে Locked করুন।
পন্থা-২
গতি কমানোর একেবারে
শেষ পর্যায়ে গিয়ার নামানো
ব্রেইক ধীরে ধীরে
কষতে থাকুন। গতি আস্তে আস্তে ৫০, ৪০, ৩০, ২০, ১০ এভাবে কমে আসতে থাকবে। ঠিক যেখানটায়
থামতে চাচ্ছেন তার আগে প্রায় দুই গাড়ির দূরত্বে পৌঁছে ক্লাচ পুরোপুরি চেপে ধরুন ও ব্রেইক
আরো কষে গাড়িকে কাংখিত জায়গায় দাঁড় করান। ফার্স্ট গিয়ারে আনুন। অর্থাৎ ফিফথ থেকে সরাসরি
ফার্স্ট।
আবার চলতে চাইলে ব্রেইক ছেড়ে দিয়ে এক্সিলারেটর হালকা চেপে
ধরুন(1500rpm)।ক্লাচ ধীরে ধীরে বাইটিং পয়েন্টে আনুন। ২/৩ সেকেন্ড সেখানে ধরে রাখুন।
তারপর পুরোপুরি ছেড়ে দিন। গাড়ি আবার চলতে শুরু করবে।
অথবা গাড়ির ইঞ্জিনসহ পুরোপুরি বন্ধ করে
দিতে চাইলে গিয়ার ফার্স্ট থেকে নিউট্রলে নিয়ে আসুন। ক্লাচ ছেড়ে দিন। পার্কিং ব্রেইক অন করুন।
পায়ের ব্রেইক ছেড়ে দিন। চাবি বাম দিকে(ঘড়ির কাটা বিপরীত দিকে) ঘুরিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ(অফ)
করুন। তারপর আরো একটু মোচড় দিয়ে Locked করুন।
এভাবে গিয়ার পরিবর্তন
করাকে বলে Block Gear Changing। আমরা ধারাবাহিকভাবে (5, 4, 3, 2 এভাবে) গিয়ার পরিবর্তন
না করে সরাসরি 5 থেকে 1 এর নিয়ে আসলাম। আপনি ইচ্ছে করলে 5 থেকে 3 বা 2 এও আসতে পারেন।
একইভাবে 4 থেকে 2 বা 1 ।
এ পর্বে আমরা
শিখলাম কিভাবে গাড়ির গতি বাড়াতে ও কমাতে হয়।
Comments
Post a Comment