উপপাদ্য-১: একমাত্র সরল পথই হচ্ছে সত্য, সুন্দর ও সংক্ষিপ্ততম পথ।

13 June, 2017
---------------------
প্রমাণ:
একটি বিন্দু A এবং অপর একটি বিন্দু B নেই।
এবার স্কেলের সাহায্যে A ও B বিন্দুকে সংযোগ করি মানে A বিন্দু থেকে B বিন্দু পর্যন্ত একটি সরল লেখা আঁকি।
.
এবার A বিন্দু থেকে সোজা উপরের দিকে একটা ছোট সরললেখা আঁকি। রেখাটির শেষ প্রান্ত থেকে ভূমির সমান্তরালে(B বিন্দু যে দিকে আছে সে দিকে) আরেকটি সরল রেখা আঁকি। এভাবে এঁকে-বেঁকে একটার পর একটা সরল রেখা আঁকি এবং শেষ পর্যন্ত B বিন্দুতে গিয়ে মিলিত হই। তাহলে এভাবে A বিন্দু থেকে B বিন্দু পর্যন্ত একটি বক্র রেখা অংকিত হলো।
.
আবার A বিন্দুর সোজা নিচের দিকে আগের মত একটি ছোট সরল রেখা আাঁকি এবং উপরে বর্ণিত নিয়ম অনুসারে A থেকে B বিন্দু পর্যন্ত একটি বক্র রেখা আঁকি। তাহলে এবার আরো একটি বক্ররেখা অংকিত হলো।
.
তাহলে আমরা একটি সরল রেখা ও দুইটি বক্র রেখা পেলাম।
.
এবার স্কেলের সাহায্যে সরল রেখাটি পরিমাপ করি। তারপর প্রথম বক্র রেখার প্রত্যেকটি ছোট ছোট সরল রেখা পরিমাপ করে সবগুলো রেখার দৈর্ঘ্য যোগ করে ঐ বক্ররেখার মোট পরিমাপ বের করি। ঠিক একই ভাবে দ্বিতীয় বক্ররেখার পরিমাপ বের করি।
.
আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? তিনটি রেখার মধ্যে দৈর্ঘে্য সবচেয়ে ছোট বা সংক্ষিপ্ত রেখাটি হলো প্রথম রেখাটি মানে সরলরেখাটি। এভাবে আমরা A ও B বিন্দুর মধ্যে যত বক্ররেখা আঁকব সবগুলোই হবে সরলরেখাটির চেয়ে দৈর্ঘে্য বড়।
.
এ থেকে আমার শিখলাম দু’টি বিন্দুর মধ্যে সরলরেখাটিই হয় সবচেয়ে ছোট বা সংক্ষিপ্ত।
.
আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা ফাতিহার প্রার্থনায় বলা হয়েছে –
” সরল সঠিক পূণ্য পন্থা
মোদের দাও গো বলি,
চালাও সে-পথে যে-পথে তোমার
প্রিয়জন গেছে চলি।”—প্রার্থনা- গোলাম মোস্তফা (সূরা ফাতিহার একাংশের বাংলা অনুবাদ)
.
অর্থাৎ সরল পথটাই হচ্ছে সঠিক এবং পূন্য পন্থা।
.
কোরআন-হাদিসে আমাদেরকে বার বার সরল পথে চলতে বলা হয়েছে। কেন বলা হয়েছে?
উপরের উপপাদ্য থেকে আমরা জানলাম সরল পথই হলো সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ। তার মানে আমরা যদি সরল পথে চলি তবে সবচেয়ে কম সময়ে এবং হয়রানি ছাড়াই আমাদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারবো। এবং এতে পথহারা হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
.
আসুন দেখি বক্রপথে চললে কি হবে!! ধরুন, আপনি আছেন A বিন্দুতে। আপনার গন্তব্য B বিন্দু। A বিন্দু থেকে আপনি সোজা সরল পথে B বিন্দুর দিতে তাকালেন। আপনার চোখে পড়লো বিশাল দূরত্বের একটি সরল পথ। যেহেতেু পুরো সরল রেখাটি আপনি একবারেই দেখছেন সেহেতু এটাকে আপনার অনেক বেশি দূরত্ব মনে হবে। আপনি ভাবলেন েএই সরল পথে গেলে আপনার অনেক দেরি হবে। আপনি আরো সংক্ষিপ্ত পথে যাওয়ার জন্য প্রথম বক্ররেখাটি বেছে নিলেন। এবং A বিন্দু থেকে প্রথম ছোট রেখাটির দিকে তাকালেন। যেহেতু রেখাটি ছোট সেহেতু আপনি ভাবলেন এই পথে গেলেই আপনার গন্তব্য এসে যাবে। যখন রেখার প্রান্ত বিন্দুতে পৌঁছলেন তখন দেখলেন আরেকটি মোড় মানে আরেকটি সরলরেখা। তখন ভাবলেন এই রেখার শেষ প্রান্তে পৌঁছলেই বুঝি আপনার গন্তব্য এসে যাবে। কিন্তু যখন পৌঁছলেন তখন দেখলে এটাও আরেকটা মোড় এবং আরেকটি ছোট সরলরেখার শুরু। এভাবে সংক্ষিপ্ত পথ মনে করে যত েএগুবেন তত পথের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকবে।
.
ধরে নিলাম, আপনি শেষ পর্যন্ত B বিন্দুতে পৌঁছলেন। কিন্তু আপনি ইতোমধ্যে সরল পথের চেয়ে বেশি দূরত্ব এবং বেশি সময় ব্যয় করলেন গন্তব্যে পৌঁছতে(যদি আদৌ পৌঁছতে পারেন!)। যে পথটাকে সংক্ষিপ্ত পথ মনে হয়েছিল সেটা আসলেই একটা দীর্ঘ পথ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই পথে যেতে যেতে যদি আপনি লক্ষ্যচ্যুত হয়ে ভুল দিকে মানে যে দিকে আপনার গন্তব্য (B বিন্দু) আছে তার বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করেন তবে কখনই গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন না। কিংবা দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মোড়ে, মোড়ে, বাঁকে, বাঁকে হতাশ হয়েও পড়তে পারেন। এবং এক সময় হাল ছেড়ে দিয়ে পরাজয়কে মেনে নেয়ার সম্ভাবনা প্রচুর যা আমাদের বেশিরভাগের জীবনেই ঘটে যাচ্ছে অহরহ।
.
এই সরল পথের বিষয়টি ধর্মীয় জীবনের মত আমাদের বাস্তব জীবনেও প্রয়োগসাধ্য। ধরুন, আপনি ইংরেজি শিখবেন। কিন্তু সরল পথকে দীর্ঘ মনে করে আপনি সংক্ষিপ্ত পথে (আপনার মতে) শেখার চেষ্টা করলেন। ফলাফল হলো, আপনি র্দীর্ঘ্য সময় ব্যয় করলেন, হয়রান হলেন এবং দিনশেষে অনেক কিছুই শিখলেন কিন্তু কার্যকর কিছুই শিখলেন না। এটাই বাস্তবতা। সরল পথে শিখলে যেখানে লাগতো এক বছর (ধরে নিলাম) সেখানে গরল পথে তিন বছরেও শিখতে পারলেন না।
.
লেখাশেষে আহ্বান করছি – আসুন আমরা এদিক-সেদিক-ওদিক চুলুক-ভুলুক, দু-নম্বরি, ছ-নম্বরি না করে একদম সহজ-সরল পথে চলি। কারণ সহজ-সরল পথই হলো সত্য, সুন্দর ও সংপ্তিততম পথ। এবং এ পথেই সফলতা- ইহলোকে এবং পরলোকে।

Comments