”সাহিত্যের নবপর্যায়ের
পদ্ধতি হচ্ছে ঘটনাপরম্পরার বিবরণ দেওয়া নয়, বিশ্লেষণ করে তাদের আঁতের কথা বের করে দেখানো।”
- শ্রী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (চোখের বালি)
কথা সত্যই বটে।
শুধুমাত্র ঘটনার ছায়াচিত্র দিলেই তো সাহিত্য হয় না, উপন্যাস হয় না। ছায়াচিত্র যদি দেখিতেই
হয় তো ছায়াছবি দেখিলেই হয়। এই চরম ও পরম সত্যটিকেই আমাদের নব প্রজন্মের লেখকদের মনে
রাখিতে হইবে।
কিন্তু অতি দু:খজনক
বিষয় হইলো যে, এখনকার বেশিরভাগ উপন্যাসেই শুধু ঘটনার বিবরণ থাকে। উহাতে না থাকে সাহিত্যরস,
না থাকে ঘটনার আড়ালের ঘটনা, না থাকে চরিত্রের আঁতের কথা। চরিত্ররা মুখে যাহা বলিল,
কর্মে যাহা সম্পাদন করিল তাহা যতটা গুরুত্বপূর্ণ তাহার চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হইলো
কেন তাহারা তাহা বলিল, কেন তাহা করিল ইত্যাদির দর্শন।
আমাদিগকে চিন্তা
করিতে হইবে, অদ্য শতাধিক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়া সত্বেয় কেন রবি ঠাকুর, শরৎ বাবুরা বাঁচিয়া
আছেন! ইহা কি নিছক আনন্দ পাঠের কারণ? নাকি কোন সত্যবস্তুর সন্ধান? নাকি সত্যবস্তু সন্ধান
এর আনন্দ?
আমাদিগকে গভীর
ভাবনায় ডুবিতে হইবে। নিজেকে, নিজের চারিপাশকে আত্মগত করিতে হইবে। তারপর আত্মগত উপাদানকে
নিংড়ে সারবস্তু বাহির করিতে হইবে। তাহার পর সেই সার বস্তু দিয়া সাহিত্য নির্মাণ করিতে
হইবে।
দুইটা বিষয় আমাদেরকে
স্মরণ রাখিতে হইবে,
ক. সারবস্তুর
সহিৎ আনন্দের কোনো বৈপিরত্য নাই।
খ. সারবান সাহিত্যই
কালকে এবং কালের মানুষকে জয় করিতে পারে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,
শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় প্রমুখ সাহিত্যিকগণ তো সারবান সাহিত্য দিয়াই পাঠককে আনন্দ দিয়াছেন।
তাঁহাদের সাহিত্যে তো আনন্দরসের কমতি নাই। তাঁহারা আনন্দরসের সহিত সারবস্তুর শৈল্পিক
সম্মিলন ঘটাইতে পারিয়াছেন বলিয়াই শতাধিক বৎসরান্তেও তাঁহারা বাঁচিয়া রহিয়াছেন। ঠিক
একই কারণে এ যুগের লেখকরা বাঁচিয়া থাকা অবস্থায়ই মরিয়া যান।
যদি মরিয়া বাঁচিয়া
থাকিতে কেহ ইচ্ছা করে তো তাঁকে সারবান সাহিত্যে আনন্দরসের যোগান দিতেই হইবে। উহা ছাড়া
গত্যন্তর নাই।
Comments
Post a Comment